মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হলো। সৌদি আরবের মক্কায় আল-সাফা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছেন। চুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’।
চুক্তির মূল বার্তা সরল—তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। এটি ন্যাটোর মতো এমন কোনো ব্যবস্থা নয়, যেখানে একটি সদস্য আক্রান্ত হলেই অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে নেমে পড়বে। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির নির্দিষ্ট সামরিক প্রতিক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা বা স্বয়ংক্রিয় হস্তক্ষেপের বিস্তারিত ধারা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটিকে আপাতত একটি সমন্বিত প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসংগত।
চুক্তিটির তাৎপর্য বুঝতে হলে গত এক বছরের মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে তাকাতে হবে।
সৌদি আরব ও পাকিস্তান এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর রিয়াদে স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তিতেও বলা হয়েছিল, এক দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কিন্তু এরপর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। পাকিস্তান তখন একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানায়, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালায়।
মার্চে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং গত বছরের সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সম্ভাব্য যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর এপ্রিলে পাকিস্তান সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি সামরিক সদস্য ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের কথা এসেছে।
অর্থাৎ, মক্কার নতুন চুক্তি একেবারে শূন্য থেকে তৈরি হয়নি। এর পেছনে গত কয়েক মাসের বাস্তব সামরিক সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
এই জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একই ধরনের নয়। বরং এক দেশের শক্তি অন্য দেশের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।
সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অর্থনীতি, জ্বালানি সম্পদ এবং বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয়। দেশটি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
তুরস্কের রয়েছে বড় ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী, ন্যাটো সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত সম্প্রসারিত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ড্রোন, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তিতে তুরস্ক গত এক দশকে নিজস্ব সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় স্থলবাহিনী, দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা।
তিন দেশ তাই একই জিনিস দেওয়ার চেষ্টা করছে না। বরং তাদের সক্ষমতার সমন্বয়ই এই কাঠামোর মূল আকর্ষণ।
চুক্তিটির সবচেয়ে বড় ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এটিকে সরাসরি ‘মুসলিম ন্যাটো’ বা ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে দেখা।
ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর ক্ষেত্রে কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তিন দেশের মধ্যে কোনো অভিন্ন সামরিক কমান্ড, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ-প্রতিক্রিয়া কিংবা নির্দিষ্ট সামরিক বাহিনীকে বাধ্যতামূলকভাবে মোতায়েন করার কাঠামো দেখা যাচ্ছে না।
বরং এর বাস্তব গুরুত্ব অন্য জায়গায়।
যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো সংকট দেখা দিলে তিন দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিও আগের তুলনায় শক্তিশালী হবে।
অর্থাৎ, চুক্তিটি যুদ্ধ শুরু করার চেয়ে যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিন দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে জটিল।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ইসলামাবাদ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যেতে চায় না।
২০২৬ সালের যুদ্ধেও পাকিস্তান এই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ইসলামাবাদ সৌদি আরবের ওপর হামলার সমালোচনা করেছে এবং সৌদি নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও নিয়েছে।
এখানেই মক্কা চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে।
চুক্তিতে কোনো দেশকে নিজের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা না থাকলে পাকিস্তান একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা সহযোগী এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষ—দুই ভূমিকাই ধরে রাখতে পারে।
এটি কোনো সরল ‘একদিকে সৌদি, অন্যদিকে ইরান’ সমীকরণ নয়।
তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বহুমুখী কূটনীতি দেখা যায়।
আঙ্কারা সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার নীতিতেও তুরস্ক নেই। তুরস্কের নিজস্ব আঞ্চলিক স্বার্থ রয়েছে—সিরিয়া, ইরাক, ককেশাস, পূর্ব ভূমধ্যসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ক্ষমতার ভারসাম্যে।
তাই মক্কা চুক্তিকে কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক জোট হিসেবে দেখলে তুরস্কের অবস্থান বোঝা কঠিন হবে।
বরং এটি আঙ্কারাকে উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
চুক্তির সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে ইরান ও ইসরায়েলের হিসাব-নিকাশে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করলে এখন আক্রমণকারীকে শুধু সৌদি প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবলে হবে না। পাকিস্তান ও তুরস্ক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তার সম্ভাবনাও হিসাব করতে হবে।
তবে এখানেও একটি সীমা আছে।
চুক্তিটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। ইরান বা ইসরায়েলের নামও প্রকাশ্য ঘোষণায় শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। তুর্কি কর্মকর্তারা এটিকে প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাই চুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এর সামরিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করার ক্ষমতা।
একটি সম্ভাব্য আক্রমণকারী এখন নিশ্চিতভাবে জানে না—সৌদি আরবকে আঘাত করলে পাকিস্তান কতটা এগিয়ে আসবে, তুরস্ক কী ধরনের সহযোগিতা করবে, কী পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য ভাগ হবে, কিংবা তিন দেশ কীভাবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে।
এই অনিশ্চয়তাই প্রতিরোধের একটি অংশ।
মক্কা চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উপসাগরীয় নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে পরিবর্তিত ধারণা।
দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অগ্রাধিকার সব সময় এক নয়।
সৌদি আরবের দৃষ্টিকোণ থেকে তাই শুধু ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প অংশীদার তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মক্কার চুক্তি সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হতে পারে।
এর অর্থ এই নয় যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে দিচ্ছে। বরং রিয়াদ সম্ভবত একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের কৌশলগত বিকল্পের সংখ্যা বাড়াতে চাইছে।
এখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন কাঠামো যত শক্তিশালী হবে, ততই প্রশ্ন উঠবে—অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো কি এতে যোগ দেবে?
কিন্তু ইউএইর ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ নয়। আবুধাবি গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভারত, চীন ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গেও তার নিজস্ব কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
সুতরাং সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দিতে হলে ইউএইকে তার বর্তমান ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির একটি অংশ পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
এই মুহূর্তে তাই আবুধাবি বাইরে থাকাটাই স্বাভাবিক।
মক্কা চুক্তির আসল পরীক্ষা হবে কাগজে নয়, সংকটের মুহূর্তে।
ধরা যাক, সৌদি আরবের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিমানঘাঁটি বা শহরে বড় ধরনের হামলা হলো। তখন পাকিস্তান কী করবে? তুরস্ক কী করবে? তারা কি শুধু গোয়েন্দা তথ্য ও বিমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেবে, নাকি সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে?
আবার পাকিস্তান আক্রান্ত হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কতদূর যাবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।
আর এ কারণেই চুক্তিটিকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা অতিরঞ্জিত হবে।
তবে এটিকে গুরুত্বহীন বলার সুযোগও নেই।
কারণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ছিল। মক্কার এই চুক্তি সেই ব্যবস্থার বাইরে অন্তত একটি নতুন স্তরের আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করছে।
মক্কা চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সম্ভবত তিন দেশের কতটি যুদ্ধবিমান, কতজন সেনা বা কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—তা নয়।
মূল বিষয় হলো, কোনো সম্ভাব্য আক্রমণকারীকে এখন একাধিক রাজধানীর প্রতিক্রিয়া হিসাব করতে হবে।
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের বড় স্থলবাহিনী ও কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা—এই তিনটি শক্তিকে একই রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হয়েছে।
কিন্তু তিন দেশই নিজেদের জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে স্বাধীন থাকবে। ফলে এটি একক কমান্ডের সামরিক জোট নয়; বরং সমন্বিত প্রতিরোধ, তথ্য বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো।
মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষরের স্থানটি এটিকে আলাদা প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু এর প্রকৃত গুরুত্ব নির্ধারণ করবে আগামী কোনো সংকটে তিন দেশের সিদ্ধান্ত।
সেদিক থেকে মক্কার চুক্তি হয়তো একটি নতুন সামরিক জোটের জন্মের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নির্দেশ করছে—মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য একক কোনো শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছে না।