কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক তপন বকসী আর নেই

কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও ধর্মীয়-সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব তপন বকসী আর নেই। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার মুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে কুমিল্লার চান্দিনাসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তপন বকসীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তপন বকসী বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতি ও জনজীবনে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ছিল।

চান্দিনার হারং বকসী বাড়ির বাসিন্দা তপন বকসী ছিলেন বিধুভূষণ বকসীর ছেলে। তিনি চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৭০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবন থেকেই নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তী জীবনেও সেই সম্পর্ক অটুট ছিল।

রাজনীতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তপন বকসী। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ সংগঠক ও জনসম্পৃক্ত মানুষ।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, আইসিটি সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মধুসূদন বিশ্বাস লিটন গভীর শোক জানিয়েছেন।

শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল পাল ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার। তাঁরা তপন বকসীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা।

তপন বকসীর দীর্ঘদিনের সহপাঠী ও বন্ধু সুবাস চন্দ্র মজুমদারও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৭০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তপন বকসীর সঙ্গে দীর্ঘ বন্ধুত্বের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি শোক প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমল চন্দ খোকন শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি যোগেশ চন্দ্র সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. মধুসূদন রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও শোক প্রকাশ করেছেন।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, তপন বকসীর মৃত্যু কুমিল্লার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে তপন বকসীর দীর্ঘদিনের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্মময় জীবন এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভবিষ্যতেও তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

মৃত্যুকালে তপন বকসী স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী, সহপাঠী, বন্ধু এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রয়াত তপন বকসীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *