রাজধানীতে নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে মঙ্গলবার (১৮ই আগস্ট)। এ সার্ভিসের বাসগুলোতে চালক ও চালকের সহকারী হিসেবে নারী কর্মী থাকবেন। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন রুটে ১০টি বাস দিয়ে এ সেবা শুরু হবে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় পরে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
নতুন এ উদ্যোগের আওতায় রাজধানীর পাশাপাশি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস চলাচল করবে। এতে নারীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবহন সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মতিঝিল বাস ডিপোর অধীনে দুটি রুটে বিশেষ বাস চলবে। একটি বাস নতুন বাজার থেকে যাত্রা শুরু করবে। এরপর কোকাকোলা, উত্তর ও মধ্য বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে।
অন্য বাসটি তালতলা থেকে চলবে। পথে খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, মুগদা, কমলাপুর, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে।
যাত্রাবাড়ী ডিপোর অধীনে থাকবে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে জিপিও রুট। এ পথে বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও মৎস্য ভবন থাকবে।
কল্যাণপুর ডিপোর অধীনে চলবে মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল রুটের বাস। মিরপুর-১০ থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে বাসটি মতিঝিলে যাবে।
মিরপুর ডিপোর অধীনে আরও দুটি রুটে বিশেষ বাস চলাচল করবে। একটি বাস মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল যাবে। অন্যটি মিরপুর থেকে মতিঝিল রুটে চলবে।
এ দুটি রুটে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও মতিঝিল যুক্ত থাকবে।
নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস শুধু রাজধানীর ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও এ বাস চলবে।
মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটের বাস শংকর থেকে ছাড়বে। এরপর ধানমন্ডি-১৫, সিটি কলেজ, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটের বাস চাষাড়া থেকে চলবে। পথে শিমরাইল, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শনির আখড়া ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে।
আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে বাস চলবে আশুলিয়া, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট ও শাহবাগ হয়ে। গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটের বাস গাজীপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলাচল করবে।
গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। ভিড়, হয়রানি এবং গণপরিবহনে অনিরাপদ পরিবেশ অনেক নারীর নিয়মিত যাতায়াতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এ বাস্তবতায় নারী চালক ও সহকারী দিয়ে বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুধু বাসে নারী কর্মী নিয়োগই যথেষ্ট নয়। সেবার মান, নির্ধারিত সময়সূচি, বাসের সংখ্যা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কার্যকর রাখতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ১০টি বাস দিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেবা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের জন্য একটি পৃথক ও তুলনামূলক নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।