জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের উদ্যোগে ২১তম ব্যাচের নবীন বরণ ও ১৫তম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯শে আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক উৎপলবর্ণা চাকমা । প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের অধ্যাপক সুবাস পাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অনুরাগ ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ও সাংগঠনিক বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। নবীন শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতেও সংগঠনের প্রয়োজনে পাশে থাকার আহ্বান জানান।

জুয়েল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, তঞ্চঙ্গ্যা, রাখাইন, মণিপুরী, খিয়াং, বম, চাক, পাঙখোয়া, বর্মণ ও সাঁওতালসহ প্রায় ১৫টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। তাই যেখানেই থাকুন, নিজেদের শেকড় ও পরিচয় যেন ভুলে না যান। পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উৎপল তঞ্চঙ্গ্যা। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি জেরিন চাকমা। তিনি নবীনদের ক্যাম্পাস জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিমেল ত্রিপুরা বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি নিজের ক্যাম্পাস জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নবীনদের ভবিষ্যৎ গঠনে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিতা চাকমা নিজের ক্যাম্পাস জীবন ও সংগঠনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে বলে প্রত্যাশা জানান তিনি।

সাবেক সহ-সভাপতি ট্যালেন্ট চাকমা নবীনদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঐক্য ছাড়া নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখা কঠিন। নিজেদের শেকড়ের কথা মনে রেখে অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও পরিচয় নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সংগঠনের আরেক সাবেক সহ-সভাপতি শ্রাব্দী তালুকদার নিজের ক্যাম্পাস জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে করার প্রত্যাশা জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সুবাস পাল আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। সমতলে বসবাসরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। সমাজের জন্য নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে না যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক সুবাস পাল। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি অনুরাগ ত্রিপুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানান। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন।

অনুরাগ ত্রিপুরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যবই ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নিজেকে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বৈচিত্র্য দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি। নবীনদের স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুরাগ ত্রিপুরা প্রত্যাশা করেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নবীন শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে সংগঠন ও সমাজের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *