পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সবুজ অর্থায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখল রোধ, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে হবে।
রোববার (২৫শে অক্টোবর) হংকং সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী সমাজ ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এদিন তিনি হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ‘সুন্দরবন লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রীর এ সফরে হংকংয়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইকো এক্সপো এশিয়া ২০২৬’ এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ইনোভেশন কনফারেন্স’-এ অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া চীনের হুনান প্রদেশে সবুজ প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিবিড় তদারকি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি উদ্ধারের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ৪২৪টি পয়েন্ট থেকে এসব নদীতে দূষণ হচ্ছে। নদীদূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিটের ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর গভীর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্বন ঋণ এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ অর্থায়ন এবং প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াখালীতে ভূমিহীন মানুষের বসতি স্থাপন এবং বন বিভাগের জমিসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। সদরঘাটের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
সভায় হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন : জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে সহনশীল করার তাগিদ পরিবেশমন্ত্রীর