ফ্রান্সে পশুর ওপর যৌন নির্যাতন, আফগান আশ্রয়প্রার্থীকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড

আশ্রয়প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছয়টি প্রাণীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত; সাজা শেষে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ

পশু আশ্রয়কেন্দ্রে ছাগল

বিজয় মজুমদার

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে পশুর ওপর যৌন নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণের দায়ে ১৯ বছর বয়সী এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গত ২২শে জুন আইক্স-আঁ-প্রভঁসের আদালত এ রায় দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাজা ভোগ শেষে তাঁকে ফ্রান্স থেকে বহিষ্কারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্সেই শহরের কাছে লে পেন-মিরাবো এলাকার একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষামূলক খামারে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই খামারের ছাগল ও একটি ছয় মাস বয়সী মেষশাবকের ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে তদন্তে উঠে আসে। নির্যাতনের শিকার ছয়টি প্রাণীর মধ্যে একটি ছাগল পরে মারা যায়।

খামারটির দায়িত্বে থাকা কাসান্দ্রা সরতিনো প্রথমে কয়েকটি প্রাণীর শরীরে অস্বাভাবিক ক্ষত দেখতে পান। কয়েকটি প্রাণীর পায়ে বাঁধার দাগ ছিল। তাদের যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত দেখা যায়।

বিষয়টি পশুচিকিৎসককে জানানো হলে তিনিও প্রাণীগুলোর আঘাতের ধরন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর খামার কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উদ্যোগী হয়। প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে নজরদারির ক্যামেরাও বসানো হয়।

তদন্তকারীরা খামারে এক ব্যক্তির বারবার প্রবেশের তথ্য পান। পরে পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এপ্রিল মাসে একপর্যায়ে এক ছাগলের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের সময় ওই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

মামলার তদন্তে অভিযুক্তের সঙ্গে প্রাণীগুলোর সংযোগের পক্ষে বংশগত উপাদান পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যও একাধিকবার খামারটির কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত দেয়।

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ বিবেচনা করে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাঁকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণী পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। প্রাণীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় কাজ করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই যুবক ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ফ্রান্সে পৌঁছান। তিনি মার্সেইয়ের একটি আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্রে থাকতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানে সংঘাতের সময় বোমা হামলায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় তাঁর জাতীয়তা বা শরণার্থী পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো যায় না। অপরাধের বিচার হওয়া উচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং প্রাণীদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় আদালতের রায় যেমন প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের বিচারিক পরিণতি তুলে ধরেছে, তেমনি অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি নিয়ে আলোচনায় তথ্যনির্ভর এবং বৈষম্যহীন অবস্থান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

 

 

আরো পড়ুন : তালেবান আমলে ‘বাচ্চা বাজি’: নাচের পর আলো নিভলেই শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *