বান্দরবানে এক বছরের মধ্যে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী

পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ জ্ঞান সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে বান্দরবান জেলায় আগামী এক বছরের মধ্যে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। পাশাপাশি থানচি উপজেলায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, লোকসংগীত, নৃত্য, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে এসব ঐতিহ্য পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। একটি সংস্কৃতিমনস্ক ও মেধাবী জাতি গঠনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, লোকসংগীত, নৃত্য, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। এসব অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড উৎসাহিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার রয়েছে স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। এসব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসর আরও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকে সামগ্রিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন সাচিং প্রু। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা সমতল—দেশের যেখানেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও সরকার আন্তরিক।

সভায় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আগামী এক বছরের মধ্যে বান্দরবান জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি আরও বলেন, থানচি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকে দ্রুত আধুনিকায়ন করা হবে। সেখানে সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামণিসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরো পড়ুন : পাহাড়ে পানির সংকট নিরসনে ঝরনা পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *