খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না। শিশুরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতটুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো কোনো বিষয় বুঝতে বেশি সময় লাগলেও এসব উপকরণের মাধ্যমে তা সহজে শেখানো সম্ভব। এতে শিশুদের শেখার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শুধু অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও শিক্ষকদের উপস্থিতি দেখা হচ্ছে না। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনদক্ষতাও যাচাই করা হচ্ছে। প্রতিটি শিশু নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রাথমিক স্তরে গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খেলনা ও অন্যান্য শিখন উপকরণের কার্যকর ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন উপকরণ বিতরণ করেন। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শেখার দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন : বেনগাজী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা