বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা এবং দুই দেশের আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ দিবস’ আয়োজন করেছে চীনের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এতে চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যাংক এবং অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আয়োজনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কী ধরনের সুবিধা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংকিং সংযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে কাছাকাছি পরিমাণ বাণিজ্য রয়েছে, এমন অন্যান্য দেশেও চীনা ব্যাংকগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও ব্যাংকিং সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। চীনের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চীনের শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়নার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনা, যন্ত্রপাতি কেনা এবং চলতি মূলধনের জন্য সহজ ও কার্যকর অর্থায়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তাও দরকার। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এ প্রয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আশিক চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোরও প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়ক অংশীদারত্ব প্রয়োজন। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় দেশের প্রতিষ্ঠান উপকৃত হতে পারে। এতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নও সহজ হবে।
চীনের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অর্থায়নের মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে।
ওয়াং কাং আরও বলেন, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
আলোচনায় বাংলাদেশে গড়ে উঠতে থাকা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, উৎপাদন, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন, লেনদেন ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনা প্রযুক্তি, মূলধন ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব পাওয়ার পথও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তবে বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা, অনুমোদন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য অনুষ্ঠানের বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে উদ্যোগটি আপাতত দুই দেশের আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সমন্বয় ও সহযোগিতা করেছে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আলোচনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নিতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।