পুষ্টি ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বাংলাদেশ সফরে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঢাকায় মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা

বাংলাদেশে মা ও শিশুর পুষ্টির উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে গত ৪ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

জাতীয় পুষ্টি পরিষদের কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের পুষ্টি উন্নয়ন আন্দোলনের বাংলাদেশ সচিবালয় ও সহযোগী সংস্থাগুলো এর আয়োজন করে। এতে সহ-সভাপতির ভূমিকা পালন করে কেয়ার বাংলাদেশ।

আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পুষ্টি ও উন্নয়নবিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য মনিকা হার্ডিং, অ্যালান জেমেল, ডেভিড মুন্ডেল, লর্ড জোনাথন ওটস, মার্থা ভার্নি ও আদারা শ্রীকান্ত।

সভায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, জাতিসংঘের সংস্থা, যুব নেটওয়ার্ক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। তাঁরা পুষ্টির উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মামুনুর রশিদ সভায় একটি উপস্থাপনা দেন। জাতীয় পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ আলোচনা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মা ও শিশুর পুষ্টির উন্নয়নে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে অপুষ্টি মোকাবিলায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুপুষ্টির উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্যতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুষ্টি কার্যক্রমের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সমন্বয় জরুরি।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা সবার জন্য স্বাস্থ্যকর ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে আলোচনায় গৃহীত নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত, বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

 

 

আরো পড়ুন :  শিশুদের জীবন বাঁচাতে আইসিডিডিআরবি-এর উদ্যোগে মুগ্ধ ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *