ঢাকা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখল দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যানজট নিরসন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম, বিএনপি কেরানীগঞ্জ থানার সাংগঠনিক সম্পাদক আরফান ইবনে আমান অমি, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পদধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তদারকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১১ আসনের বস্তি এলাকা এবং জেলার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত ২৭৪টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগে লুণ্ঠিত সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে অবশিষ্ট লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধান সড়কে অবৈধ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কাপ্তান বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবৈধ বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে স্পিকার ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
পরবর্তী সভায় প্রতিটি দপ্তরকে নিজ নিজ গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ‘ফিডব্যাক’ হিসেবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেন, “জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তিনি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা অনুযায়ী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।