বিমানবন্দরের কার্গো জট কমাতে স্থায়ী-অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং-এর দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধানে স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার (১৭ই আগস্ট) সকাল ১১টায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে থাকা কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে কার্গো পণ্য দ্রুত খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কার্গো ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু অন্যদের অনুসরণ করতে চায় না; বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সভায় দ্রুত স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো তৈরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে কাস্টমসের মূল দায়িত্ব হলো আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা যাচাই, প্রয়োজনীয় ঘোষণা ও কাগজপত্র এবং শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ বা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে কাস্টমস সেখানে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন না হলেও বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর বিমান কার্গো ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

সভায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সাতটি সম্ভাব্য স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কোন স্থানে কী ধরনের অবকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে এবং কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো সম্ভব—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে ওষুধের আমদানি-রপ্তানি দ্রুত করার জন্য কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ওষুধের মতো তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরাপদ হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

কার্গো ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিমানবন্দরে আসা পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য AI-ভিত্তিক মডেল তৈরির প্রস্তাবও সভায় আলোচিত হয়।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্গো ব্যবস্থাপনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরে পণ্য সংরক্ষণ, শনাক্তকরণ ও খালাসের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প, ওষুধ ও অন্যান্য সময়-সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *