রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে দলের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৩ই  আগস্ট) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম প্রস্তাব করেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে দলের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠক কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত তাঁর প্রার্থিতাকে আরও আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

মির্জা ফখরুলের নাম অবশ্য কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিল। ২৪শে জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। তখন বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ছিল সবচেয়ে আলোচিতগুলোর একটি।

২৫শে জুলাই মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপির দলীয় ফোরাম। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

এরপর দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তাঁর নাম আরও জোরালো হয়। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তখন দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।

মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।

২৮শে জুলাই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠকও হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন তখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

পরে তিনি সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে ১৯৮৬ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকারের সময় তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্যও।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন এখন পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয়কে রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিশ্চিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *