বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনাকে অগ্রাধিকার, ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই উদ্যোগে বিদেশি ভাষাগুলোর মধ্যে চীনা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ঢাকায় ইউজিসি কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এবং চীনের চিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কেন্দ্র রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পায়।

ইউজিসি বলছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় চীনা ভাষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা যেন দুই দেশের সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে কারণেই চীনা ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে দক্ষ শিক্ষক সংকট। ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত চীনা ভাষার শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নেই। এ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এতে দুই দেশের শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঁচ বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কর্মসূচি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে বৃত্তি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে যৌথ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, তাদের গ্লোবাল টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রাম-এর আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া চিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কারণে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ভাষাগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, সচিব ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *