পণ্যের মোড়কে বা বিজ্ঞাপনে ‘১০০% প্রাকৃতিক’, ‘১০০% বিশুদ্ধ’ বা ‘১০০% অর্গানিক’—এই ধরনের দাবি সাধারণত ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে এবং পণ্যের প্রতি আস্থা বাড়ায়। কিন্তু এই দাবি যদি হয় বিভ্রান্তিকর এবং যাচাই করার মতো কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকে, তবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন। সম্প্রতি এমনই এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের শীর্ষ খাদ্য সুরক্ষা ও মান সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসএসএআই)। জনপ্রিয় এফএমসিজি সংস্থা ডাবর ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে তাদের একাধিক খাদ্যপণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (৩রা আগস্ট) এফএসএসএআই-এর পক্ষ থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডাবরের ওয়েবসাইটে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন পণ্যে ‘১০০% ন্যাচারাল’, ‘১০০% পিওর’ এবং ‘১০০% অর্গানিক’ লেখা রয়েছে। এফএসএসএআই-এর পর্যবেক্ষণ, এই দাবিগুলো অস্পষ্ট, যাচাইযোগ্য নয় এবং ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার মতো।
সংস্থাটির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো বৈধ প্রমাণ ছাড়া পণ্যকে ‘১০০%’ বিশুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দাবি করা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী।
এফএসএসএআই-এর এই কড়াকড়ির আওতায় পড়েছে ডাবরের বেশ কিছু জনপ্রিয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে:
মধু, আপেল সিডার ভিনেগার, নারকেল তেল, গাওয়া ঘি, ডাবের পানি, নারকেলের দুধ ।
শুধু ‘১০০%’ দাবিই নয়, এফএসএসএআই-এর নজরে এসেছে আরও একটি গুরুতর অনিয়ম। ডাবরের কিছু পণ্যে ‘জৈবিক ভারত’ লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। ‘জৈবিক ভারত’ হলো এফএসএসএআই-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি বিশেষ সার্টিফিকেশন বা লোগো, যা মূলত প্রকৃত অর্গানিক বা জৈবিক খাদ্য চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অভিযোগ, ডাবর এই লোগো ব্যবহারের জন্য সংস্থার কোনো বৈধ অনুমোদন বা এন্ডোর্সমেন্ট পায়নি।
জানা গেছে, এর আগেও এফএসএসএআই-এর পক্ষ থেকে ডাবরকে নোটিস পাঠিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ‘১০০%’ দাবি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডাবরের তরফ থেকে সেই নির্দেশ মানা হয়নি এবং পণ্যের মোড়ক বা ওয়েবসাইট থেকে এই দাবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বারবার সতর্কতা দেওয়া সত্ত্বেও অনিয়ম না কাটার প্রেক্ষিতে এফএসএসএআই এখন সরাসরি পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি, ডাবরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই বিভ্রান্তিকর দাবি বন্ধ করতে এবং নিয়ম মানতে সংস্থাটি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে হবে।
এই ঘটনা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। পণ্যের মোড়কে বা ওয়েবসাইটে থাকা চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনী শব্দের আড়ালে আসল সত্য অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে। এফএসএসএআই-এর এই কড়া পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, ভোক্তাদের স্বার্থে খাদ্যপণ্যের গুণমান ও বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসন এখন অনেক বেশি সক্রিয়। ডাবরের মতো বড় এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ বাজারে অন্য সংস্থাগুলোর জন্যও একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।