ঢাকায় ‘জাপান–বাংলাদেশ বিজনেস কানেক্ট ২০২৬’

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান–বাংলাদেশ বিজনেস কানেক্ট ২০২৬’। দুই দেশের ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও নেটওয়ার্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সোমবার (৩রা আগস্ট) ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপানিজ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইন ঢাকা (জেসিআইএডি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি উইং) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান।

রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাণিজ্য, শিল্প, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে জেট্রো ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাটাওকা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ এবং সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে উপস্থাপনা দেন। এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বাংলাদেশের উৎপাদন, রপ্তানি ও শিল্পোন্নয়নে জাপানের অবদান এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন।

পরবর্তী নেটওয়ার্কিং সেশনের উদ্বোধন করেন জেসিআইএডির সভাপতি ইউজি ওয়াগাতা। সেশনটি পরিচালনা করেন এমসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ এন. করিম। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এমসিসিআইর সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সুযোগ আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে। জেট্রোও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ব্যবসায়িক সংযোগমূলক আয়োজন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা, সেবাখাত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শেষে এমসিসিআইর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা, যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *