তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সংকটের স্থায়ী সমাধান আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই টেকসই পথ।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট এবং আল উম্মাহ জার্নাল-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রগতির জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও বিভাজনের এই সময়ে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ সময়োপযোগী। এটি বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
তিনি বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানুষের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। তাই কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের পক্ষে পুরো বিশ্বের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবকল্যাণও নিশ্চিত করতে পারে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের অনেক সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও জাতিগত বিভাজন, কোথাও ধর্মীয় বিরোধ, আবার কোথাও ভাষা বা সংস্কৃতির প্রশ্ন সংঘর্ষের কারণ হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় গবেষক, চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে। সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হতে হবে সেই উদ্যোগের ভিত্তি।
তিনি বলেন, ইতিহাসে যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং জ্ঞানচর্চা, মুক্ত চিন্তার বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্মানই সভ্যতার অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়েছে।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা চায়, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজস্ব মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল শক্তি মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আত্মিক দর্শনে নিহিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল এবং আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও মতের মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগানের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।