কুমিল্লায় ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. সাগর শিকদার ওরফে সাগর হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই ) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৪ই মে সন্ধ্যায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায় দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ। তল্লাশির সময় গাড়িটির ড্রাইভিং সিটে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আমীর হোসেন বাদী হয়ে মো. সাগর শিকদারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ মণ্ডল ২০১৬ সালের ৫ই জুন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তৎকালীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার টেবিল-৯(খ) অনুযায়ী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
একই বছরের ১৩ই নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
রায়ে আদালত মো. সাগর শিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মতিন মোল্লা।