সিলেটের শ্রীমঙ্গল সংলগ্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়েছে। শনিবার (২০শে জুন) শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এথনিক ট্যুরিজমের বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার কাজ করবে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সিলেট বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যটনের মাধ্যমে সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তোলা।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজমের উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এই হারমোনি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, পর্যটন শিল্পে নতুন পণ্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে প্রতিবছর শ্রীমঙ্গলে নির্দিষ্ট সময়ে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত এ আয়োজন চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি ও বিপণনের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরা নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জীবনযাত্রার নানা দিক কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, এই উৎসব শুধু সংস্কৃতি সংরক্ষণেই নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।