ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের ২২ বছরের শাপমুক্তি

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা। হতাশা, ব্যর্থতা আর অপূর্ণতার ভার বয়ে চলা এক ক্লাবের অবশেষে মুক্তি মিলল এক প্রতীকী মুহূর্তে। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে গোলটি এল এমন এক ফুটবলারের পা থেকে, যিনি মাঠের বাইরেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে কখনও দ্বিধা করেন না। ফিলিস্তিনের পতাকা শরীরে জড়িয়ে নেওয়া মহম্মদ রশিদের পা থেকেই এল ইস্টবেঙ্গলের শাপমুক্তির গোল।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর লাল-হলুদ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেন বাঁধভাঙা নদীর মতো ছড়িয়ে পড়ে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের কাছে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়, বরং আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ারও এক উপলক্ষ।

সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফিলিস্তিনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ। মাঠে তাঁর দৃঢ়তা, লড়াকু মানসিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার সক্ষমতা আবারও প্রমাণ করল কেন তিনি দলের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচ শেষে আরেকটি দৃশ্য বিশেষভাবে আলোচনায় আসে—ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে উদযাপন করেন রশিদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁর এই অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে তাই এই জয় শুধুই ক্রীড়া সাফল্য নয়; এটি আবেগ, প্রতীক্ষা এবং প্রতীকী এক বার্তারও নাম। যে গোল ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ করল, সেটি এসেছে এমন এক ফুটবলারের পা থেকে, যিনি নিজের বিশ্বাস ও মানবিক অবস্থান প্রকাশ করতেও সমান সাহসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *