বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সংযোজন হিসেবে একটি মোবাইল মেডিক্যাল সার্জিক্যাল ভেহিকল হস্তান্তর করেছে চীন। রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিশেষায়িত ভ্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া দুই দেশের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এই ভ্যান শুধু একটি চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রতীক। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, চীন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশে হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগের সংখ্যা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি দেশের দূরবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট প্রতি বছর লক্ষাধিক রোগীকে প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকে। তবে এই সেবা এখনও মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। নতুন এই মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মোবাইল সার্জারি ভ্যান জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা দিতে সক্ষম। এতে মাঠপর্যায়ে রোগ নির্ণয়, স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজন হলে ছোটখাটো অপারেশনও করা যাবে। ফলে দুর্গম ও অবহেলিত অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার আওতায় আসবে।
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি বিনিময়, চিকিৎসক প্রশিক্ষণ এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই নতুন সংযোজন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনগণমুখী করে তুলবে।