রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল, বাড়ছে ট্রেন

অফিস, ব্যবসা কিংবা পড়াশোনা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকার যানজট অনেকের জন্যই বড় ভোগান্তির কারণ। সেই ভোগান্তি কিছুটা কমাতে মেট্রোরেলের সেবার সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচল রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

একই সঙ্গে চলতি আগস্টের শেষ দিকে বহরে আরও দুটি ট্রেন যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে রাতের ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বর্তমানে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনের সময়সূচির কারণে রাতে অফিস বা ব্যবসার কাজ শেষ করা অনেক যাত্রীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্টেশনে পৌঁছাতে হয়। সময় পেরিয়ে গেলে তাদের বাস, রিকশা, সিএনজি কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়।

নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেন রাত ১১টায় ছাড়বে। অর্থাৎ রাতের যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে।

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেলের দৈনিক কার্যক্রমের সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাড়ানো হবে।

মেট্রোরেলের যাত্রী চাপ সামলাতে আগস্টের শেষ দিকে আরও দুটি ট্রেন বহরে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন ট্রেন দুটি যুক্ত হলে বিশেষ করে দিনের শেষভাগে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে।

বর্তমানে কোনো কোনো সময়ে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর পরবর্তী ট্রেনের জন্য যাত্রীদের প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। নতুন ট্রেন যুক্ত হলে এই ব্যবধান কমে প্রায় ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসতে পারে।

এর ফলে শুধু অপেক্ষার সময়ই কমবে না, ট্রেনের ভেতরের অতিরিক্ত ভিড়ও কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়লে রাতে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার যাত্রী এই পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বিশেষ করে অফিস শেষে ফেরা কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং রাতে যাতায়াতকারী নারীদের জন্য এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সড়কের যানজট এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

মেট্রোরেলের নির্ধারিত সময়সূচি ও তুলনামূলক দ্রুত যাত্রার কারণে অনেক যাত্রীর দৈনিক যাতায়াতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হতে পারে।

রাতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ফলে মেট্রোরেলের টিকিট বিক্রির আয়ও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত যাত্রীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হতে পারে।

মেট্রোরেল প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়ন রয়েছে। বাড়তি আয় প্রকল্পের পরিচালন ব্যয় ও ঋণ পরিশোধে সহায়ক হতে পারে।

নতুন ট্রেন পরিচালনার জন্য চালকদের প্রশিক্ষণও চলছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন চালকদের প্রশিক্ষণ ২৬ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দায়িত্বে যোগ দিলে নতুন ট্রেনগুলো নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে নতুন সময়সূচি ও ট্রেন পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ কমলাপুর পর্যন্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, তখন প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারেন।

মেট্রোরেলের সময় বাড়ানো, নতুন ট্রেন যুক্ত করা এবং কমলাপুর পর্যন্ত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ—এই তিনটি উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রাতের যাত্রীদের জন্য এটি সড়কনির্ভর যাতায়াতের একটি কার্যকর বিকল্প তৈরি করবে।

তবে মেট্রোরেলের সময়সূচি পরিবর্তন এবং নতুন ট্রেনের সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানতে ডিএমটিসিএলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সময়সূচিই অনুসরণ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *