প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতার সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বেইজিং সফরে চীনের সঙ্গে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও অন্যান্য সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

শনিবার (২০শে জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৭টি দলিল স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যেই এসব চুক্তি ও সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং যমুনা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা দুই দেশের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ তিস্তা প্রসঙ্গ আলোচনায় তুলবে। পাশাপাশি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নদী উন্নয়ন সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সম্ভাব্য চীনা অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা হয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইও পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে রিজার্ভার নির্মাণ, বাঁধের আকার ও প্রকল্পের অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।

আসাদ আলম সিয়াম জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে এবং এসব উদ্যোগে অংশগ্রহণের বিষয় বিবেচনা করছে।

এই চারটি উদ্যোগ হলো— বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *