নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়া বাণিজ্য মেলা ২০২৬’। বুধবার (৭ই মে) সকালে ভ্রিকুঠিমণ্ডপ এক্সিবিশন হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শফিকুর রহমান ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং শত শত নেপালি দর্শনার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় চেম্বার নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
০৭ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত চলমান এই মেলায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ১২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। নেপাল চেম্বার অব কমার্স (এনসিসি) এবং ‘ইনট্রোডাকশন ট্রেড শোজ নেপাল’ যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। ২৫টি স্টল নিয়ে এটিই পুরো মেলার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন। বাংলাদেশের ২৪টি প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন ফ্যাশন সামগ্রী প্রদর্শন করছে।
আয়োজকরা বলছেন, এই মেলা শুধু বাণিজ্যিক প্রদর্শনী নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোরও একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। মেলায় স্টার্টআপ উদ্যোক্তা প্যাভিলিয়ন, বিনিয়োগকারীদের সভা, বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে নেপালসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের নতুন ক্রেতা তৈরি হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্পের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা কাঠমান্ডুতে অবস্থানকালে বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং ডিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বাজার সম্ভাবনা যাচাই কার্যক্রমেও অংশ নেবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেলা চলবে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং কোনো প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়নি।