ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। ১৮৫৫-৫৬ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের বীরত্বগাথা স্মরণে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহ শুধু একটি অঞ্চলের বা কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল জমির ওপর আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে গড়ে ওঠা প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রামগুলোর একটি।
মন্ত্রী বলেন, “চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক মহাবিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাঁওতাল হুলের চেতনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। স্বৈরাচার ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সাঁওতালসহ দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগ মুর্মুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং অ্যাডভোকেট জন গমেজ। এছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদন মুর্মু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু।
আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ১৮৫৫-৫৬ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই বিদ্রোহের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।