জুলাই’২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, কবিতার শক্তি এবং আবৃত্তিচর্চার প্রসারকে সামনে রেখে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন উৎসব-২০২৬’। বুধবার (৫ই আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আবৃত্তিশিল্পী, কবি, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শক-শ্রোতারা অংশ নেন।
উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল আবৃত্তিচর্চার বিস্তার, নতুন প্রজন্মের মধ্যে কবিতা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং জুলাই’২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধারণ করা।
সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুই শতাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিযোগীরা অংশ নেয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা, ‘কবিকণ্ঠে জুলাইয়ের পঙক্তিমালা’ কবিতা পাঠ এবং জুলাই’২৪-এর শহিদদের স্মরণে ‘বর্ষা বিপ্লবের কবিতা-২০২৬’ শীর্ষক দলীয় ও একক আবৃত্তি।
সংগঠনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
আলোচনা শেষে অতিথিরা নজরুল আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন।
‘কবিকণ্ঠে জুলাইয়ের পঙক্তিমালা’ পর্বে কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, এবিএম সোহেল রশিদ, শান্তা মারিয়া, রকিব লিখন, সুমন সুবহান, সৈকত আমীন ও ইমরান মাহফুজ জুলাই গণআন্দোলনের অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগ ও চেতনাকে কেন্দ্র করে কবিতা পাঠ করেন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বর্ষা বিপ্লবের কবিতা-২০২৬’। এতে দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে আবৃত্তি বিশ্বজ্ঞানালয়, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চিলেকোঠায় চিরকুট এবং স্বরবৃত্ত। পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান ও নবীন আবৃত্তিশিল্পীরা একক পরিবেশনায় জুলাই’২৪-এর আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধকে কবিতার ভাষায় তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন ছিল দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ। অংশগ্রহণকারীদের মতে, আবৃত্তি শুধু শিল্পচর্চার মাধ্যম নয়, ইতিহাস, গণতান্ত্রিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও একটি কার্যকর মাধ্যম।
আয়োজকরা জানান, আবৃত্তির নান্দনিক চর্চার পাশাপাশি ইতিহাস, মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন ভবিষ্যতেও এ ধরনের জাতীয় আয়োজন অব্যাহত রাখবে।