গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের সেই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনে বহু মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তবু রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল সময়েও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

তিনি অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এসব ঘটনার সত্য উদঘাটন, বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। সুশাসন, জবাবদিহিতা, জনগণের কল্যাণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। তাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবকে ভুলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্রও মেনে নেওয়া হবে না।’

অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *