কুষ্টিয়ার পদ্মার চরে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন, ভালো দামে হাসছেন কৃষক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে এ বছর চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন যেমন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, তেমনি বাজারেও মিলছে ভালো দাম। ফলে কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। একই সঙ্গে বাদাম তোলা, শুকানো ও বাছাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের নারী-পুরুষ শ্রমিকরা।

উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার দৃশ্য চোখে পড়ে। কয়েক বছর আগেও যেসব জমি বছরের বড় সময় অনাবাদি পড়ে থাকত, সেগুলো এখন লাভজনক বাদাম চাষের আওতায় এসেছে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৫১০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে আবাদ হয়েছে প্রায় ৮২০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ বেশি। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমির বাদাম ঘরে তোলা হয়েছে। গড়ে প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ দশমিক ৪ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে।

যদিও মৌসুমের শুরুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু এলাকায় ফলন কিছুটা কমেছে, তবুও কৃষকদের মতে বাজারদর ভালো থাকায় লাভের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

মুন্সীগঞ্জ এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ক্ষতি হয়েছে। তারপরও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

রামকৃষ্ণপুর এলাকার কৃষক আফতাব উদ্দিন জানান, এবার তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, যে জমি একসময় কোনো কাজে লাগত না, এখন সেই জমিই পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

সোনাতলা গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তার কারণে এবার সাত বিঘা জমিতে ভালো ফলন পেয়েছেন।

ফিলিপনগর চর এলাকার কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ফলন মিলছে প্রায় ৪ থেকে ৫ মণ।

বাদাম তোলার মৌসুমে চরাঞ্চলে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। বাদাম ক্ষেতে কাজ করা রহিমা খাতুন বলেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকা মজুরি পেয়ে তারা পরিবারের আয় বাড়াতে পারছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর প্রায় ৩৩০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনার আওতায় চিনা বাদামের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজীব আল মারুফ বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেতের বাদাম ঘরে তোলা হয়েছে এবং উৎপাদন সন্তোষজনক। বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও কৃষকরা ভালো লাভ করছেন।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনাবাদি জমি রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তার পরিধি বাড়ানো গেলে এসব জমিকেও বাদাম চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে একদিকে কৃষকদের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের তেলবীজ উৎপাদনও আরও শক্তিশালী হবে।

 

 

ফরিদ আহমেদ
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *