কারিগরি শিক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা, উপকৃত ৫০ হাজারের বেশি তরুণ

কায়সার বাচ্চু

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটি আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশন প্রোগ্রাম—ইউসেপ বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা দিয়ে আসছে।

এই উদ্যোগে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫০ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী উপকৃত হয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরুণ। বিশাল এই জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে বড় সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ। তরুণদের পর্যাপ্ত শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে এই জনসংখ্যাগত সুবিধা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও তরুণদের জন্য শিক্ষার পর কর্মসংস্থানে প্রবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণদের জন্য বাজারমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। এ কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়া ও ইউসেপের সহযোগিতার মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের দক্ষ করে তোলা। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা শুধু একটি নির্দিষ্ট পেশায় প্রশিক্ষিত হন না। শিল্প ও সেবা খাতের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এর ফলে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন ধরনের কাজের বিস্তারের সঙ্গে কর্মবাজারও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই সহযোগিতা সেই বৃহত্তর দক্ষতা উন্নয়ন প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ করে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মান, শিল্পের চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণের সামঞ্জস্য এবং প্রশিক্ষণ শেষে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ তাই শুধু কর্মসংস্থান তৈরির বিষয় নয়। এটি দেশের উৎপাদনশীলতা, আয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও ইউসেপের অংশীদারত্বে ২০১৯ সাল থেকে ৫০ হাজারের বেশি তরুণের কাছে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পৌঁছানো সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *