‘রেজিস্ট্যান্সের রিলস’: ৮৬ দেশের তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উৎসব ঢাকায়

মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের গল্পকে সামনে রেখে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ১৭তম ইন্টারন্যাশনাল ইন্টার-ইউনিভার্সিটি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (আইআইইউএসএফএফ)। এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য—‘রিলস অফ রেজিসট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধের রিলস’।

উৎসবটি আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি (ডিইউএফএস)। আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত নরওয়ের রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসি।

এবারের উৎসবে বিশ্বের ৮৬টি দেশ থেকে শিক্ষার্থী নির্মাতারা মোট ১ হাজার ২৬৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নরওয়ে এবং বাংলাদেশও। বিভিন্ন দেশের তরুণ নির্মাতাদের এসব চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে মানবাধিকার, সামাজিক বৈষম্য, ন্যায়বিচার এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থানের নানা গল্প উঠে এসেছে।

নরওয়ের রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অ্যাম্বাসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম, যা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমারেখা পেরিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা ও গল্পকে একে অপরের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। তরুণ নির্মাতাদের কাজ সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করছে।

উৎসবের অংশীদারত্বের আওতায় নির্বাচিত কিছু চলচ্চিত্র বাংলাদেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও প্রদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানুষের প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে আলোচনা ও ভাবনার সুযোগ তৈরি হবে।

নরওয়ের দূতাবাস মনে করে, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার সর্বজনীন মূল্যবোধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নরওয়ের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও এসব মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রের মতো সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা আরও বড় পরিসরে পৌঁছানো সম্ভব।

‘রিলস অফ রেজিসট্যান্স’ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে এবারের উৎসব তাই শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন নয়; বরং তরুণ নির্মাতাদের চোখে সমাজ, অধিকার ও ন্যায়বিচারের নানা বাস্তবতা দেখার একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হয়ে উঠতে চায়।

আয়োজকদের আশা, বিভিন্ন দেশের তরুণ নির্মাতাদের এসব চলচ্চিত্র দর্শকদের প্রচলিত ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।

উৎসবের আয়োজনে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৬৩টি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে যে বৈচিত্র্যময় গল্পগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোই শেষ পর্যন্ত দেখাবে—ভাষা ও সংস্কৃতি আলাদা হলেও অন্যায়, অধিকার ও ন্যায়ের প্রশ্নে মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্যে কতটা মিল রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *