ফিলিপাইনের প্রথম ডব্লিউটিএ একক চ্যাম্পিয়ন আলেকজান্দ্রা ইয়ালা

বৃষ্টিতে বারবার থেমেছে ম্যাচ। অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বৃষ্টির বাধা পেরিয়েই ইতিহাস গড়েছেন ফিলিপাইনের ২০ বছর বয়সী টেনিস খেলোয়াড় আলেকজান্দ্রা ইয়ালা।

মুবাদালা ডিসি ওপেনের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় জেসিকা পেগুলাকে ৪-৬, ৬-৪, ৬-০ গেমে হারিয়ে প্রথম ফিলিপিনো নারী হিসেবে ডব্লিউটিএ ট্যুরের একক শিরোপা জিতেছেন ইয়ালা। এই জয় ফিলিপাইনের টেনিস ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়। রোববার রাতে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বন্ধ হওয়ার সময় পেগুলা ৬-৪, ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। পরদিন ম্যাচ আবার শুরু হলে ইয়ালা তখনও ৪-৬, ৩-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন।

তবে সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ফিলিপাইনের এই বাঁহাতি খেলোয়াড়। টানা গেম জিতে তিনি দ্বিতীয় সেট ৬-৪ ব্যবধানে নিজের করে নেন। এরপর তৃতীয় সেটে পেগুলাকে কোনো সুযোগই দেননি। ৬-০ ব্যবধানে সেটটি জিতে ম্যাচও নিশ্চিত করেন ইয়ালা।

ম্যাচ শেষে নিজের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইয়ালা বলেন, বৃষ্টির কারণে তাঁকে মনে হয়েছে, তিনি যেন ‘হাজারবার’ ওয়ার্মআপ করেছেন। তবে বিরতির সময়টিকে কাজে লাগিয়ে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ইয়ালার শিরোপার পথটিও ছিল কঠিন। টুর্নামেন্টে তাঁকে একে একে হারাতে হয়েছে একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয় সিড এলিনা সভিতোলিনা, তৃতীয় সিড নাওমি ওসাকা এবং সপ্তম সিড ও গতবারের চ্যাম্পিয়ন লেইলা ফার্নান্দেজ। এর বাইরে ২০২৪ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেং কিনওয়েনকেও হারিয়েছেন তিনি।

পেগুলাকে হারানোর ফলে চলতি মৌসুমে ইয়ালার টপ-১০ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল সাতটিতে। সভিতোলিনা ও পেগুলার বিপক্ষে জয়ও সেই তালিকায় যোগ হয়েছে।

ইয়ালার জন্য এই শিরোপা আরও বিশেষ একটি কারণে। গত বছর লেক্সাস ইস্টবোর্ন ওপেনের ফাইনালে চারটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট পেয়েও শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। মায়া জয়েন্টের কাছে সেই ম্যাচে হারের পর এবার বড় মঞ্চে আরও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিলেন ২০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

ডব্লিউটিএ ট্যুরে প্রথম শিরোপা জয়ের পাশাপাশি এই সাফল্যের প্রভাব পড়ছে ইয়ালার র‌্যাঙ্কিংয়েও। এই জয়ের পর প্রথমবারের মতো ডব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ প্রবেশ করার পথে রয়েছেন তিনি।

ফাইনাল শেষে ইয়ালা বলেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে তিনি কল্পনাও করেননি যে শেষ পর্যন্ত ট্রফি হাতে নিতে পারবেন। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে নিজের খেলায় উন্নতি করার পাশাপাশি নিজের সম্পর্কেও নতুন কিছু শিখেছেন বলে জানান তিনি।

ইয়ালার এই জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের সাফল্য নয়। ফিলিপাইনের টেনিস ইতিহাসেও এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দেশটির কোনো নারী খেলোয়াড় এর আগে ডব্লিউটিএ ট্যুরের একক শিরোপা জিততে পারেননি।

বৃষ্টিতে থেমে যাওয়া একটি ফাইনাল শেষ পর্যন্ত তাই হয়ে উঠল ফিলিপাইনের টেনিসের জন্য স্মরণীয় রাত। ২০ বছর বয়সী ইয়ালা শুধু বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে হারাননি, নিজের দেশকেও এনে দিয়েছেন প্রথম ডব্লিউটিএ একক শিরোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *