টেক্সটাইল খাতে চীনা বিনিয়োগে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা

ঢাকায় শুরু হয়েছে ১৩তম বাংলাদেশ ইয়ার্ন, ফেব্রিক্স অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ শো–২০২৬ । দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও আনুষঙ্গিক পণ্যের আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী বৃহস্পতিবার (১৩ই  আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেন এএসতে ট্রেড এন্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড-এর পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু (এমএমএফ) উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে প্রচলিত তুলাভিত্তিক পণ্যের পাশাপাশি এমএমএফ-ভিত্তিক পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এ খাতে চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা গেলে শুধু নতুন বিনিয়োগই আসবে না; এর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা হস্তান্তরের সুযোগও তৈরি হবে। এতে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে।

মোহাম্মদ হাতেম বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ যত বেশি সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা যাবে, বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে আন্তর্জাতিক পোশাকবাজারে ক্রেতাদের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাক তৈরির কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতেও পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে স্পোর্টসওয়্যার, আউটারওয়্যার, কার্যকরী পোশাক ও বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক পোশাকে এমএমএফ-এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এ ধরনের ফাইবার ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

টেক্সচেম এক্সপো ২০২৬-এ ইয়ার্ন, ফেব্রিক্স, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ, টেক্সটাইল কেমিক্যাল এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ১৫০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি এখানে তুলে ধরছে।

আয়োজকদের আশা, প্রদর্শনীটি দেশীয় টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি বিনিময় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতেও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে।

চার দিনের এ প্রদর্শনী বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের জন্য শুধু পণ্য প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ বোঝার ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *