কুমিল্লায় সংস্কৃতি উৎসব: ঐতিহ্য, দেশাত্মবোধ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনায় মুখর শিল্পকলা একাডেমি

বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, দেশাত্মবোধ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদারের আহ্বানে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি’র কুমিল্লা সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কুমিল্লা মহানগর শাখা। এতে সহযোগিতা করে কুমিল্লার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আহ্বায়ক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ আহমেদ মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি ডা. আফশান আনিস। সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে জাসাসসহ সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী কুমিল্লার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান বক্তা সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তিনি গুণী শিল্পীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয় পর্যায়ে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনের পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব।

অনুষ্ঠানের পরিবেশনাগুলোর মধ্যে ছিল দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, নৃত্য আলেখ্য কুমিল্লা আমার কুমিল্লা, সমবেত আবৃত্তি এবং কাজী নজরুল ইসলামের গণসংগীত কারার ঐ লৌহ কপাট। এছাড়া কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেব বর্মণের জনপ্রিয় গান ঝিল মিল ঝিল মিল ঝিলের জলে-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা এবং জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ডিসপ্লে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজনের লক্ষ্য শুধু সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন নয়; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারাও পরিবেশনাগুলোকে আন্তরিকভাবে উপভোগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত মিলনায়তনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *