এআইয়ে ডুয়াল ডিগ্রি চালু করতে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চীনের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়। এআই বিষয়ে ডুয়াল ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে শিগগিরই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ছেন চিমিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিং চাং, অধ্যাপক ইন চিকুয়াং এবং অধ্যাপক চেং ইউ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল হক এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই।

বৈঠকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে ডুয়াল ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এআই গভর্ন্যান্স বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা জোরদারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরির বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন ড. ছেন চিমিন।

এ ছাড়া যৌথ গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশ, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। গবেষণার মান উন্নয়নে নিয়মিত যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি শেখার ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগ্রহী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে যান। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুতান বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং আরও যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি চালু করতে চীনা প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বিশ্ববিদ্যালয়।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *