২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজ ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেছে। এসব কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৭ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৯৮ দশমিক ২২ শতাংশ। পাশাপাশি শতভাগ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফলাফল অনুযায়ী, ক্যাডেট কলেজগুলোর কোনো শিক্ষার্থীই এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করেনি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন জিপিএ-৫ পায়নি। ফলে সামগ্রিক ফলাফলে ক্যাডেট কলেজগুলোর সাফল্যের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি।
ক্যাডেট কলেজগুলো বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল ও ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ক্যাডেট কলেজগুলোর লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়। শিক্ষার্থীদের চৌকস, দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এ কারণে ক্যাডেটদের দৈনন্দিন জীবনে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক, নেতৃত্বচর্চা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত থাকে।
ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে, ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফলের পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আবাসিক পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি, ক্যাডেটদের অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা।
এ ছাড়া ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের দিকনির্দেশনা এবং কলেজগুলোর অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও শিক্ষার্থীদের সাফল্যে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাডেট কলেজগুলোতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন যুগোপযোগী শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমও যুক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সমাজে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করা।
২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে ৬১৮ জনের মধ্যে ৬০৭ জনের জিপিএ-৫ অর্জন সেই দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ক্যাডেট কলেজগুলোর জন্য সাফল্যের মাপকাঠি শুধু পরীক্ষার ফল নয়; শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, চরিত্র ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশও তাদের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।