মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত হলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক আয়োজন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন। শুক্রবার (১লা মে ) বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মেহেদী হাসান। আলোচনায় অংশ নেন গণসঙ্গীতশিল্পী জামিউর রহমান লেমন এবং জাতীয় কবিতা পরিষদ-এর সভাপতি কবি মোহন রায়হানসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
বক্তারা শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলেন। তারা বর্তমান সমাজে শ্রমিকদের জীবনসংকট তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংস্কৃতিকর্মীদের দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন। তাদের মতে, গণমুখী সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনার গল্প তুলে ধরা জরুরি। এতে সমাজে সচেতনতা বাড়বে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে আবৃত্তি, মূকাভিনয়, সংগীত, গণসংগীত ও জাদু প্রদর্শন ছিল। দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়। দর্শকনন্দিত শিল্পীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আবৃত্তি পরিবেশন করেন শফিকুল ইসলাম বাহার, মেহেদী হাসান, মাহমুদুল হাসান, দীপক সুমন, সামছুদ্দোহা পাটোয়ারী, মনিরুজ্জামান পলাশ, মেহবুবা হক রুমা, আকতার হোসেন, মাহি ফারহানা, ইশরাত শিউলী, জাহান বশীর, শহীদুল্লাহ কায়সার, শিরীন বেবী ও ফাহমিদা সূচনা।
মূকাভিনয় উপস্থাপন করেন নিথর মাহবুব। জাদু প্রদর্শনে দর্শকদের মুগ্ধ করেন সাদাত মামুন।
সন্ধ্যায় একক সংগীত পরিবেশন করেন জামিউর রহমান লেমন, লাভলী শেখ, পাগল শাহীন, পল্লী মোশাররফ ও আশরাফুজ্জামান শাইলু শাহ। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গণসংগীত পরিবেশন করে। মে দিবসের জনপ্রিয় গানগুলোতে দর্শক-শ্রোতারা সাড়া দেন।
আবৃত্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান জানান, এ ধরনের আয়োজন শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামকে সামনে আনে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি ও সমাজের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশা ব্যক্ত করেন।