বাংলাদেশে প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বিপরীতে জনগণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ওয়েলফেয়ার স্টেট গবেষক মঞ্জুর কাদের এবং তরুণ রাজনীতিবিদ সালমান ফারসি।
গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর তোপখানা রোডে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে মঞ্জুর কাদের বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি উন্নত দেশের ওয়েলফেয়ার স্টেট বা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ২০১৭ সালে দেশে ফেরেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছর দেশের রাজনীতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে—রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বাস্তব অর্থে জনগণের রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
তরুণ রাজনীতিবিদ সালমান ফারসি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্পের অভাব ছিল বড় হতাশার কারণ। সেই শূন্যতা কাটিয়ে একটি সৎ ও জনগণমুখী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতেই তিনি এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই প্রকৃত সংস্কারের বিষয়ে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে পারেনি। তার দাবি, যারা নিজেদের সংস্কারের অগ্রদূত হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, তারাও স্বার্থের বিনিময়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের যে ধারণা একসময় সীমিত পরিসরে ছিল, তা এখন মূলধারার আলোচনায় এসেছে।
“এতদিন আমরা শুধু সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি। এখন সময় এসেছে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার,”—বলেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ূম জানান, সংগঠনটি এখন তাদের কার্যক্রমের ‘দ্বিতীয় ধাপে’ প্রবেশ করেছে। শিগগিরই সারাদেশে সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ সানাউল্লাহ সাগর।