ব্যাংককে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জীবঅর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা

জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনইএসসিএপি) পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক কমিটির নবম অধিবেশন (সিইডি-৯)-এ টেকসই জীবঅর্থনীতি (সাসটেইনেবল বায়োইকোনমি) ও জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

সম্মেলনের প্রথম দিনে তিনি উদ্বোধনী অধিবেশন, মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, টেকসই জীবঅর্থনীতি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য উৎপাদন, গ্রামীণ বায়োএনার্জি, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং জলবায়ুবান্ধব উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও সহায়তা করছে।

তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সম্মেলনের ফাঁকে মন্ত্রী নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

দুই দেশের মধ্যে জলবায়ু কার্যক্রম, টেকসই জীবঅর্থনীতি, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জৈব কৃষি, বীজ উৎপাদন, কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল, ভেষজ ওষুধ এবং জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

সিইডি-৯ উপলক্ষে আয়োজিত রিয়ালাইজিং সিনার্জিস ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক থ্রু আ সাসটেইনেবল বায়োইকোনমি শীর্ষক একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেরও উদ্বোধন করেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু। ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইউএনইএসসিএপি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (এডিপিসি) যৌথভাবে এই আয়োজন করে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকসই জীবঅর্থনীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন অংশীদারেরা অংশ নেন। তারা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই জীবঅর্থনীতির প্রসারে যৌথ উদ্যোগ, নীতি সমন্বয় এবং অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেও বক্তব্য দেন পরিবেশমন্ত্রী। সেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *