বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিমসটেক -এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “থ্রি ডিকেডস অফ বিআইএমএসটিইসি: এডভান্সিং রিজিওনাল কোঅপারেশন ফর শেয়ারড প্রসপারিটি “ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, জলবায়ু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলজুড়ে টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা গত তিন দশকে বিমসটেকের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত বিমসটেক বর্তমানে আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্য, সংযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, সামুদ্রিক সহযোগিতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির কার্যক্রম ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিআইএমএসটিইসি (বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্য দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদার করাই এ আঞ্চলিক জোটের প্রধান লক্ষ্য।