আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী ২০২৬ সালের বিডিআই লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-এ ভূষিত হয়েছেন। সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষণা, টিকা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কয়েক দশকের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্দলীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (বিডিআই) ২০১২ সালে এই পুরস্কার চালু করে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ, গবেষণা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বিডিআই জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ড. ফিরদৌসী কাদরীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি একটি মূল বক্তব্য প্রদান করবেন।
ড. ফিরদৌসী কাদরী দীর্ঘদিন ধরে কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি টিকা উন্নয়ন, টিকার কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং জনস্বাস্থ্য গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন বিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণা বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো নতুন প্রজন্মের গবেষক, বিশেষ করে নারী বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করা। গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, তরুণ বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ড. ফিরদৌসী কাদরীর ঝুলিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননা। তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০২৪ সালে ভিনফিউচার স্পেশাল প্রাইজ ফর ইনোভেটরস ফ্রম ডেভেলপিং কান্ট্রিজ এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে অবদানের জন্য ক্লারা সাউথমেইড লাডলো মেডেল অর্জন করেন। ২০২৬ সালে তিনি এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারও লাভ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিডিআই লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড শুধু একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়। এটি বাংলাদেশের সংক্রামক রোগ গবেষণা, টিকা উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে দেশের অবদানেরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।