প্যালেস্টাইনি মালিকানার জমিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস, ৯৯ বছরের চুক্তি ইসরায়েলের সঙ্গে


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পশ্চিম জেরুজালেমে নতুন মার্কিন দূতাবাসের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য একটি ভূমি-চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ৯৯ বছরের জন্য জমিটি ইজারা নেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েলকে প্রতীকী মূল্য হিসেবে মাত্র ১ মার্কিন ডলার পরিশোধ করবে।

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জমির ইজারা ৯৯ বছরের জন্য হবে এবং এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১ ডলার।

তবে জমিটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ১৯৪৮ সালের আগে এই জমির মালিক ছিলেন ফিলিস্তিনিরা। পরে ইসরায়েল ১৯৫০ সালের ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’-এর আওতায় এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ইসরায়েলভিত্তিক আরব সংখ্যালঘুদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন আদালাহ ২০২২ সালে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত জমি ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সংগঠনটির মতে, ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি এভাবে অধিগ্রহণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

আদালাহ আরও বলেছে, পশ্চিম জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সম্প্রসারণ এবং এ জন্য বাজেয়াপ্ত জমি ব্যবহার ১৯০৭ সালের হেগ রেগুলেশনের ৪৬ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে। ওই অনুচ্ছেদে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ বহু দশকের। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। পরে পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এ অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয় না। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবেও জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিজের প্রথম মেয়াদে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ২০১৮ সালে দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তর করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেক দেশ এটিকে জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করে।

বর্তমান চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী দূতাবাস নির্মাণের পথ আরও সুগম হলো। তবে জমিটির মালিকানা, ফিলিস্তিনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করলেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো তাদের ইসরায়েল দূতাবাস তেল আবিবেই রেখেছে। জেরুজালেমের চূড়ান্ত মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *