নিউইয়র্কের সমকালীন শিল্পমঞ্চে এবার উঠে এলো বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য, শ্রম আর স্মৃতির এক অনন্য শিল্পভাষা। শিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামী এবং বৃহত্ব আর্ট ফাউন্ডেশন–এর দক্ষ কারুশিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশেষ প্রকল্প ‘বৈঠক ’ প্রদর্শিত হয়েছে এপ্রিল ২০২৬এ অনুষ্ঠিত কন্ডাক্টর আর্ট ফেয়ার–এ।
বাংলাদেশের হাজারীবাগে তৈরি এই শিল্প-ইনস্টলেশনের কেন্দ্রে ছিল হাতে বোনা শীতলপাটি, পুনর্ব্যবহৃত চামড়ায় তৈরি রিকশা মোটিফ এবং পদ্মফুলের প্রতীকী উপস্থিতি। শিল্পকর্মটি শুধু নান্দনিক উপস্থাপনাই নয়, বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শ্রম ও সামাজিক স্মৃতিকে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরেছে।
‘বৈঠক’ নামের মধ্যেই রয়েছে এক ধরনের সামাজিক ও মানসিক আহ্বান। বাংলার গ্রামীণ জীবনে বৈঠক মানে একসঙ্গে বসা, কথা বলা, ভাব বিনিময় করা। শিল্পকর্মটিও সেই ধারণাকেই নতুন রূপে তুলে ধরে। দর্শকদের জন্য এটি ছিল এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষ কিছু সময় থেমে নিজের ভেতরে ফিরে যেতে পারে, আবার একে অন্যের সঙ্গে সংযোগও খুঁজে নিতে পারে।
শিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামী লোকজ উপাদানকে সমকালীন শিল্পভাষায় রূপান্তরের জন্য পরিচিত। এই প্রকল্পে তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে শুধু একটি ব্যবহারিক বস্তু হিসেবে নয়, বরং স্মৃতি, শ্রম ও পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে পুনর্ব্যবহৃত চামড়ায় তৈরি রিকশা মোটিফ শহুরে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতিকে নতুন অর্থ দিয়েছে।
শিল্পকর্মটিতে পদ্মফুলের ব্যবহারও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কাদা ও অন্ধকারের ভেতর থেকে জন্ম নিয়ে আলোয় পৌঁছানো পদ্ম এখানে আশা, পুনর্জন্ম এবং মানুষের অন্তর্গত শক্তির প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে।
নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক শিল্পমেলায় বাংলাদেশের এই উপস্থাপনাকে অনেকেই দক্ষিণ এশিয়ার লোকজ নন্দনতত্ত্বের আধুনিক পুনর্ব্যাখ্যা হিসেবে দেখছেন। ‘বৈঠক’ প্রমাণ করেছে, স্থানীয় ঐতিহ্য ও কারুশিল্পও বৈশ্বিক শিল্পভাষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তা নতুন চিন্তা ও সংবেদনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।