ইসলামী শিক্ষা চরমপন্থাকে উস্কে দেয়— এমন অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেছেন মির্যা মাসরূর আহমদ। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার জন্য ইসলাম নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দ্বৈতনীতি, ব্যর্থ নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার বেপরোয়া প্রতিযোগিতাই দায়ী।
শনিবার (১৬ই মে) যুক্তরাজ্যের টিলফোর্ড এলাকার ইসলামাবাদে আহমদিয়া মুসলিম জামাত কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শান্তি সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন ।
সিম্পোজিয়ামে প্রায় ৬০০ অতিথি অংশ নেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
খলিফা বলেন, বিশ্বের সংকটের জন্য বারবার ইসলামকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অথচ অনেক সরকার ও পরাশক্তি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর।”
মির্যা মাসরূর আহমদ আরও বলেন, ধর্মকে বলির পাঁঠা বানানোর পরিবর্তে এখন বিশ্বের প্রয়োজন শান্তি ও সম্প্রীতির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বিশ্বনেতাদের সংকীর্ণ স্বার্থ ও আধিপত্যবাদী মানসিকতাই বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “ধনী ও ক্ষমতাশালীদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং অন্যদের ওপর আধিপত্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষাই বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার মূল কারণ।”
বিশ্বনেতাদের দ্বৈতনীতিরও সমালোচনা করেন আহমদিয়া প্রধান। তিনি বলেন, অনেক রাষ্ট্র ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বদলে কৌশলগত জোটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ত্যাগের মানসিকতা জরুরি। কোনো রাষ্ট্র নিজে কোনো ছাড় দেবে না, কিন্তু অন্যদের কাছ থেকে সব ধরনের ছাড় আশা করবে— এমন নীতি কখনো স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না।
ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। নারী অধিকার বা মানবাধিকারের অজুহাতে সামরিক হস্তক্ষেপকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
খলিফা জোর দিয়ে বলেন, ইসলামের শিক্ষা শত্রুর প্রতিও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। তাঁর মতে, প্রকৃত শান্তি কেবল ন্যায়, সংযম ও সংলাপের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি বলেন, “সংঘাতের কারণ হওয়া তো দূরের কথা, ইসলামের শিক্ষা শান্তির দিকে একটি স্থায়ী পথের দিশা দেয়।”
বক্তব্যের শেষদিকে বিশ্ব একটি “ঐতিহাসিক সংকটময় মুহূর্তে” অবস্থান করছে বলে সতর্ক করেন । ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন “এক অগ্নিদগ্ধ বিশ্ব” উত্তরাধিকার হিসেবে না পায়, সেজন্য বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান ।