আইসিডিডিআর,বি’র ক্লিনিক্যাল গবেষণার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) উন্নত পরীক্ষাগার সক্ষমতা। দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ইনফ্লুয়েঞ্জাবিরোধী একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগতিবিদ্যা পরীক্ষা বাংলাদেশেই পরিচালিত হচ্ছে।
ওষুধগতিবিদ্যা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর শরীরে ওষুধের ঘনত্ব কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। ওষুধের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষাধীন ওষুধটি উদ্ভাবন করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি ও ওষুধ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরাডিভির।
এই গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইসিডিডিআর,বি’র সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও প্রধান গবেষক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ও সহপ্রধান গবেষক ড. ওয়াসিফ আলী খান।
আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এবং বিসিএসআইআর-এর সচিব মোহাম্মদ সহিদুল হক পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠানের এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন করতে দুই প্রতিষ্ঠান ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এ গবেষণার চুক্তিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হিসেবে কাজ করছে টোটাল ট্রায়ালস।
মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ে বিসিএসআইআর তাদের অত্যাধুনিক জেভো টিকিউ অ্যাবসোলিউট ট্রিপল কোয়াড্রুপোল ভর বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছে। এরপর গবেষণার সব নমুনা প্রক্রিয়াকরণের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের গুরুত্ব শুধু একটি ওষুধের পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জটিল ও বিশেষায়িত জৈববিশ্লেষণমূলক পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতারও একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
এ ধরনের পরীক্ষার জন্য অতীতে দেশের বাইরে নির্ভরতার প্রয়োজন হতে পারে। দেশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার সক্ষমতা বাড়লে গবেষণার সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় গবেষণা অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব।
বিশেষ করে নতুন ওষুধের প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় ওষুধ শরীরে প্রবেশের পর কত দ্রুত শোষিত হচ্ছে, কতক্ষণ অবস্থান করছে এবং সময়ের সঙ্গে এর ঘনত্ব কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য পরবর্তী গবেষণার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
আইসিডিডিআর,বি ও বিসিএসআইআরের এই সহযোগিতা তাই দেশের ওষুধ গবেষণা ও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল গবেষণায় স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত গবেষণার একটি বড় অংশ বাংলাদেশেই সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দেশের গবেষণা অবকাঠামো ও বিজ্ঞানীদের কারিগরি দক্ষতা আরও কাজে লাগানোর পথও প্রসারিত হবে।