আগামী নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন, সাইড ইভেন্ট এবং প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসহ সম্মেলন ঘিরে বিভিন্ন প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বুধবার (২৩শে সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ-৩১। সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে তুলে ধরতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।
সভায় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)-এর আলোচ্যসূচি অনুসারে বাংলাদেশের একটি খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে আলাদা কারিগরি প্রতিবেদন ও পলিসি ব্রিফ তৈরির সিদ্ধান্তও আগের সভায় নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য রূপান্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম), আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা।
আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট (এসডিসি গ্রুপ), উন্নয়নশীল দেশ এবং সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে যৌথ অবস্থান নেওয়ার সুযোগও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কপ-৩১ সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি 3.0, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি), জলবায়ু অর্থায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি বা লস এন্ড ড্যামেজ-এর মতো বিষয় স্থান পাবে।
এর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগও তুলে ধরা হবে।
প্যাভিলিয়নের নকশা ও ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্টের ক্যালেন্ডার এবং পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
কপ-৩১-এর মূল আলোচনায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত ও বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের জলবায়ু আলোচনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত, আবাসন এবং তুরস্কে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের মতো বাস্তব প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কপ-৩১-এর প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৮ আগস্ট একটি কারিগরি সমন্বয় কমিটি এবং তিনটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটিগুলো হলো—পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকমিটি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বুধবারের সভায় পর্যালোচনা করা হয়। তিনটি উপকমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতিও সভায় উপস্থাপন করা হয়।
মূল লক্ষ্য হলো, কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, ক্ষয়ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু ঝুঁকির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের স্বার্থ ও অভিজ্ঞতাকে আলোচনায় কার্যকরভাবে তুলে ধরা।
কপ-৩১ সম্মেলন ৯ থেকে ২০ নভেম্বর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।