হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক থেকে গবেষণার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিবছর ১৪০টি বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। এসব বৃত্তির আওতায় পড়াশোনার খরচ, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সঙ্গে হাঙ্গেরির একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা)-এর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন দিল্লিতে অবস্থিত হাঙ্গেরি দূতাবাসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কাউন্সেলর ড. ডায়ানা ডাচি এবং বাংলাদেশে হাঙ্গেরির কনস্যুলেট কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা মো. সুলতানুল আরেফিন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য হাঙ্গেরিতে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. ডায়ানা ডাচি জানান, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর স্নাতক থেকে স্নাতকোত্তর-পরবর্তী গবেষণা পর্যায় পর্যন্ত ১৪০টি বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। এসব বৃত্তিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৬৬০টির বেশি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার বিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, আলোচনা সভা ও অন্তর্জালভিত্তিক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাশাপাশি অনুষদ ও বিভাগ পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. ডায়ানা ডাচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে তিনি সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাঙ্গেরির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরো পড়ুন : বিশ্ববিদ্যালয় যখন কনসার্ট হল, তখন কোথায় জ্ঞানচর্চা?