সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সরকারি সংস্থা, চালক, মালিক ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৭শে অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম কার্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। একই সঙ্গে জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

মহাসড়কে যত্রতত্র যানবাহন রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

চালকের অনুমতিপত্র প্রদান ও যানবাহনের উপযুক্ততার সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা অন্যায্য তদবির সহ্য করা হবে না। বৈধভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত চালকের অনুমতিপত্র ছাড়া সড়কে যানবাহন চালানো গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ‘চাঁদের গাড়ি’ ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়েও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসব যানবাহন যাতে অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত হতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

একই সঙ্গে চালক ও মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. নাজিমুল হক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 

 

আরো পড়ুন : খেলাধুলা তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখে: সাচিং প্রু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *