ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি যন্ত্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। এর মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসা বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে জেলা পর্যায়েও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক রাখতে চায় না সরকার। জেলা পর্যায়েও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বাস্থ্যখাতকে জনমুখী করে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।
সোমবার (২৬শে অক্টোবর) ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে একটি শিক্ষাক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফারহাত আনোয়ার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়া।
ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এ চিকিৎসায় বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চশক্তির রশ্মি প্রয়োগ করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা বা সেগুলোর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে এ সেবার জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল ও উপযুক্ত চিকিৎসাব্যবস্থা।
জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি যন্ত্র স্থাপন করা হলে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কমতে পারে। এতে যাতায়াতের ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে যন্ত্র স্থাপনের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবার ব্যবস্থা করাও জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশ খুব বেশি পিছিয়ে নেই। তবে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার এ খাতকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসকেরা দেশের সম্পদ। যেকোনো সংকটে তাঁরা মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন। দিন-রাত পরিশ্রমের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে তাঁরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন রুমি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারি উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন : ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক কার্যকর সমাধানের তাগিদ বিজ্ঞানমন্ত্রীর