এক গ্রাম এক পণ্য উদ্যোগ: থাইল্যান্ডের প্রকল্প পরিদর্শন অর্থমন্ত্রীর

থাইল্যান্ডের পাথুম থানি প্রদেশে ‘এক উপজেলা এক পণ্য’ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ উদ্যোগ চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের ‘এক উপজেলা এক পণ্য’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গত ১৫ অক্টোবর থাইল্যান্ডের পাথুম থানি প্রদেশে তিনি এ প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।

থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের আয়োজনে রাজামঙ্গলা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের থন্যাবুরি ক্যাম্পাসের পদ্ম জাদুঘরে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রীকে প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও বাস্তবায়নপদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এ সময় তিনি ফর্নপিমন খলং ৫ হস্তশিল্প দলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি স্থানীয় হস্তশিল্পের পণ্য তৈরির প্রক্রিয়াও প্রত্যক্ষ করেন।

থাইল্যান্ডের ‘এক উপজেলা এক পণ্য’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় সম্পদ, ঐতিহ্য ও জনগোষ্ঠীর নিজস্ব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে পণ্য তৈরি করা। এর মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা এবং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিও এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ উদ্যোগ চালুর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় পণ্য উৎপাদন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং বাজার সম্প্রসারণে দেশটির কার্যক্রম থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এ সফরে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে স্থানীয় ঐতিহ্যনির্ভর পণ্যের বিকাশ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক উৎপাদকদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নপদ্ধতি, উৎপাদনের মান, উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে পণ্যের সামঞ্জস্যের ওপর।

 

আরো পড়ুন : সারাওয়াকের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের উদ্যোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *