সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করবে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (১২ই অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ কথা জানান মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক আরও পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং জাহাজ ছাড়ার স্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বর্তমানে ২০২৫ সালের ২২শে অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনের বেলায় দ্বীপে ঘুরে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন। এ মাসে দ্বীপে রাত কাটানোর অনুমতি নেই। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকেরা সেখানে রাত কাটাতে পারবেন।
বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধানও রয়েছে। এসব বিধান পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সভায় আলোচনা হয়।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের ভ্রমণসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের স্বীকৃত অন্তর্জালভিত্তিক পোর্টালের মাধ্যমে ভ্রমণ অনুমতিপত্র ও দ্রুত শনাক্তকরণ সংকেতযুক্ত টিকিট কেনার বিষয়ে জোর দেন।
একই সঙ্গে দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ করতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। পর্যটকদের নিজেদের পানির পাত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। এসব বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে রাতে সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ আয়োজন নিষিদ্ধ রাখা।
এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ রয়েছে।
সভায় কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের কয়েকজন অনলাইনে সভায় যুক্ত হন।
সেন্টমার্টিনে পর্যটন ব্যবস্থাপনার পরবর্তী সিদ্ধান্তে দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের সুবিধার মধ্যে সমন্বয় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
আরো পড়ুন : জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইউএনডিপির সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা